আরিফ হোসেন রাজু (ভোলা):
ভোলা জেলার লালমোহনে তৃতীয় লিঙ্গের নাম ভাঙিয়ে নুরুদ্দিন ওরফে শিলা এবং বিল্লাল ওরফে পায়েলের সীমাহীন অপকর্ম, চাঁদাবাজি ও সামাজিক অরাজকতায় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লালমোহন উত্তর বাজার এলাকায় শিলা ও পায়েলের নেতৃত্বে একদল হিজড়া দীর্ঘ দিন ধরে নানাভাবে মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত নুরুদ্দিন ওরফে শিলা ও বিল্লাল ওরফে পায়েল নিয়মিত ইয়াবা ও গাজার মতো মারাত্মক মাদকে আসক্ত। মাদকের প্রভাবে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠে বাজার এলাকার দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জোরপূর্বক টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে বা কম দিতে চাইলে তারা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অত্যন্ত অশালীন ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজসহ চরম খারাপ আচরণ করে।
কেবল ব্যবসা প্রতিষ্ঠাতেই নয়, এদের তাণ্ডব থেকে রেহাই পাচ্ছে না বসতবাড়ি ও বিবাহবাড়ির অনুষ্ঠানগুলোও। নতুন বিয়ে কিংবা সন্তান জন্মের খবর পেলেই তারা দলবেঁধে সেখানে হাজির হয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না পেলে বিবাহবাড়িতে উপস্থিত অতিথি ও স্বজনদের সামনে কাপড় খুলে অঙ্গভঙ্গি করার মতো চরম লজ্জাজনক ও অশ্লীল পরিস্থিতি তৈরি করে। তাদের এই অশালীন ও উশৃঙ্খল আচরণের কারণে অনেক স্থানে সুন্দর ও আনন্দঘন বিয়ের পরিবেশ পণ্ড হয়ে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে পরিবারগুলোকে চরম সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হতে হয়। এমনকি এর প্রভাবে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার মতো আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, এভাবে ভয়ভীতি ও ব্ল্যাকমেইল করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা ছিনিয়ে এনে শিলা ও পায়েল নিজেদের আস্তানায় বসে নিয়মিত ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করে মত্ত থাকে। তাদের এই মাদকসেব ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।
তাদের এই ক্রমাগত অত্যাচার ও অশালীন আচরণের প্রতিবাদে এবং লালমোহনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এখন ঐক্যবদ্ধ সাধারণ জনগণ। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা এদেরকে লালমোহন থেকে প্রতিহত করার জন্য এক জোট হয়েছেন। একই সঙ্গে সমাজকে এই মাদকসেবী ও উশৃঙ্খল চক্রের হাত থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে নুরুদ্দিন ওরফে শিলা ও বিল্লাল ওরফে পায়েলকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


















