ডেস্ক রিপোর্ট | দৈনিক স্বদেশ টাইমস
অর্থাভাব মানুষের জীবনের একটি বড় পরীক্ষা। অনেক সময় অভাবের তাড়নায় কেউ কেউ ভুল পথে উপার্জনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তবে ইসলাম স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—অন্যায় ও হারাম পথে উপার্জন কখনোই বরকতের কারণ হতে পারে না।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, অন্যায়ভাবে উপার্জিত অর্থ হারাম। এ ধরনের সম্পদ দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করলে বান্দার কোনো আমলই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। তাই দারিদ্র্য বিমোচনের প্রকৃত উপায় হলো হালাল পথে উপার্জন এবং আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা।
ইসলামে অভাব দূর ও রিযিক বৃদ্ধির জন্য কিছু বিশেষ আমল ও দোয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত কার্যকরী ও পরীক্ষিত বলে আলেমরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে ফজরের সময়ের আমলগুলোর রয়েছে বড় ফযিলত।
সাহাবীর অভাবের অভিযোগ ও রাসূল ﷺ-এর নির্দেশনা
একজন সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এসে আরয করেন—
“ইয়া রাসূলুল্লাহ! দুনিয়া আমার প্রতি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছে। আমি চরমভাবে অভাবগ্রস্ত।”
এর জবাবে নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন—
“তোমার কি সেই তাসবীহ স্মরণ নেই, যা ফেরেশতারা ও সমস্ত সৃষ্টি পাঠ করে এবং যার বরকতে রুজি প্রদান করা হয়?”
রাসূল ﷺ বলেন, সুবহে সাদিক শুরু হওয়ার পর এই তাসবীহ ১০০ বার পাঠ করতে হবে।
রিযিক বৃদ্ধির তাসবীহ
উচ্চারণঃ
সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি,
সুবহানাল্লাহিল আলিয়্যিল আযীম,
ওয়া বিহামদিহি আস্তাগফিরুল্লাহ।
অর্থঃ
মহাপবিত্র আল্লাহ এবং সকল প্রশংসা তাঁর জন্য।
মহাপবিত্র আল্লাহ, যিনি সর্বোচ্চ মহান।
এবং আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।
রাসূল ﷺ বলেন—
“যদি তুমি ১০০ বার পাঠ করো, তবে দুনিয়া অপমানিত হয়ে তোমার কাছে ফিরে আসবে।”
কিছুদিন পর সেই সাহাবী পুনরায় এসে জানান—
“ইয়া রাসূলুল্লাহ! এখন রিযিক এত বেশি আসছে যে আমি হতবাক হয়ে যাচ্ছি!”
উৎস: আল খাছায়িছুল কুবরা, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-২৯৯
সকাল-সন্ধ্যায় পড়ার আয়াত
এই তাসবীহর পাশাপাশি সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার সূরা তালাকের আয়াত পাঠ করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে—
উচ্চারণঃ
وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا
وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ
অর্থঃ
যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য মুক্তির পথ বের করে দেবেন এবং তাকে এমন স্থান থেকে রিযিক দেবেন, যেখানে তার ধারণাও থাকবে না।
সূরা তালাক: আয়াত ২-৩
কাবার গিলাফে লেখা বিশেষ দোয়া
বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতে, একটি দোয়া রয়েছে যা কাবা শরীফের দরজার গিলাফে লেখা থাকে। নিয়মিত পাঠ করলে রিযিক বৃদ্ধি পায় বলে উল্লেখ রয়েছে।
দোয়াটি হলো—
উচ্চারণঃ
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ,
আল মালিকুল হাক্কুল মুবিন,
মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ,
আস সাদিকুল ওয়াদিল আমিন।
অর্থঃ
আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনিই প্রকৃত মালিক।
হযরত মুহাম্মদ ﷺ আল্লাহর রাসূল, সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত।
আলেমদের মতে, প্রতিদিন ১০০ বার পাঠ করলে দারিদ্র্য দূর হয় এবং রিযিকে বরকত আসে।
উৎস: তারিখে বাগদাদ (১২/৩৫৮), আল হিলিয়া (৮/৩০৯)



















