দৈনিক স্বদেশ টাইমস
শুক্রবার , ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৫শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. দুর্ঘটনা
  7. নির্বাচন
  8. নেত্রকোনা
  9. বিনোদন
  10. মতামত
  11. ময়মনসিংহ বিভাগ
  12. রাজনীতি
  13. শিক্ষা
  14. শীর্ষ সংবাদ
  15. শেরপুর

ফুলবাড়িয়া নির্বাচন অফিসে ‘টাকা দিলেই সেবা’ বিভিন্ন সেবায় অর্থ দাবির অভিযোগ, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

প্রতিবেদক
dailyswadeshtimes
সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ

এসএম আব্দুল্লাহ | দৈনিক স্বদেশ টাইমস

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে এসে হয়রানি ও অর্থ দাবির অভিযোগ তুলেছেন একাধিক সেবাগ্রহীতা। তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়ায় সেবা পেতে যেখানে নিয়ম মেনে আবেদন করার কথা, সেখানে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘসূত্রতা ও নানা অজুহাতের মুখে পড়তে হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নতুন ভোটার হওয়া, নামের বানান সংশোধন, ছবি তোলা, বয়স সংশোধন, পিতা-মাতার নাম সংশোধনসহ বিভিন্ন এনআইডি সেবায় অনানুষ্ঠানিকভাবে অর্থ দাবি করা হয়। চাহিদামতো অর্থ দিতে না চাইলে সেবাগ্রহীতাদের অপেক্ষা করতে হয় কিংবা বারবার অফিসে আসতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে যা দেখা গেছে

সরেজমিনে উপজেলা নির্বাচন অফিসের বাইরে একটি চেয়ার ও টেবিল রেখে সেবাগ্রহীতাদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে দেখা যায়। সেবাগ্রহীতাদের কয়েকজনের অভিযোগ, কাগজপত্রে সামান্য ভুল, সিরিয়াল কিংবা দ্রুত সেবা দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নামের বানান সংশোধন, ছবি তোলা এবং বয়স সংশোধনের মতো বিষয়েও সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ চাওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও কার নির্দেশে এসব অর্থ চাওয়া হচ্ছে—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

নতুন ভোটারদের সেবা নিয়েও অভিযোগ

সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বুধবার নতুন ভোটারদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ছবি তোলার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ওই দিনগুলোতে অফিসে ব্যাপক ভিড় হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অর্থ প্রদান করলে দ্রুত তথ্য আপলোড বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করার সুযোগ পাওয়া যায়। বিপরীতে অর্থ না দিলে একই কাজের জন্য অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়।

একাধিক সেবাগ্রহীতার দাবি, বয়স, নাম কিংবা পিতা-মাতার নাম সংশোধনের মতো কাজেও অনানুষ্ঠানিক অর্থের দাবি করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, ‘টাকা দিলে কাজ সহজ হয়, না দিলে নানা জটিলতা তৈরি হয়।’

ভুক্তভোগীদের বক্তব্য

ফুলবাড়িয়া উপজেলার কালাদহ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুলতান আলীর ছেলে জিহাদ বলেন, তিনি প্রথমে ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করলে আবেদনটি বাতিল করা হয়। পরে তিনি ২ হাজার ৭০০ টাকা দেওয়ার পর গত ৮ জুলাই ভোটার হয়েছেন বলে দাবি করেন।

জিহাদের ভাষ্য, নির্বাচন অফিসে গিয়ে তার মনে হয়েছে—টাকা দিলে যেন অনেক সমস্যারই সমাধান হয়ে যায়।

মো. আব্দুর রহমান নামে আরেক সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, টাকা না দেওয়ায় ছয় মাসেও তিনি তার জাতীয় পরিচয়পত্র পাননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করার পর ছবি তোলার বিষয়ে যোগাযোগ করলে তাকে পরে আসতে বলা হয়। তবে তার দাবি, অর্থ প্রদান করলে অন্যদের তুলনামূলক দ্রুত সেবা পেতে দেখেছেন।

আরেক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এনআইডি সংশোধনের জন্য নির্বাচন অফিসে গেলে তার কাছে অর্থ দাবি করা হয়। পরে সহকারী নির্বাচন অফিসারের মাধ্যমে সাড়ে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার পর তার কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্য একজন জানান, জরুরি প্রয়োজনে এনআইডি সংশোধনের জন্য অফিসে গেলেও অতিরিক্ত অর্থ না দেওয়ায় তাকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।

বয়স বাড়িয়ে ভোটার হওয়ার অভিযোগ

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, বিদেশগমনেচ্ছু কম বয়সী কিছু ব্যক্তি অর্থের বিনিময়ে বয়স বাড়িয়ে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি শুধু অনিয়ম নয়, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবস্থাপনা ও ভোটার তালিকার নির্ভুলতার জন্যও গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। তাই অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের অনিয়ম সম্ভব নয়। অফিস সহকারীদের মাধ্যমে অর্থ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং কার নির্দেশে বা কী প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেন হয়েছে—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

স্বচ্ছ তদন্তের দাবি

জাতীয় পরিচয়পত্র একজন নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্র। এ সংক্রান্ত সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে যদি হয়রানি, দীর্ঘসূত্রতা কিংবা অননুমোদিত অর্থ প্রদানের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে তা জনসেবার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং কোনো ধরনের অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই নির্ধারিত নিয়মে দ্রুত এনআইডি সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

দৈনিক স্বদেশ টাইমসের অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।

Facebook Comments Box

সর্বশেষ - অপরাধ